করোনায় যত রকমের চা চাই

বিভিন্ন সুস্বাদু চায়ের রেসিপি  করোনার এ সময়টা লেবু চা, মসলা চাসহ নানা রকম চা পানের পরামর্শ পাচ্ছি। এক কাপ চা যে…

বিভিন্ন সুস্বাদু চায়ের রেসিপি  করোনার এ সময়টা লেবু চা, মসলা চাসহ নানা রকম চা পানের পরামর্শ পাচ্ছি। এক কাপ চা যে নিমেষেই সতেজ করে দিতে পারে, তা তো কমবেশি জানাই।

তুলসী ও মধুর চা

তুলসী ও মধুর চাতুলসী ও মধুর চা

উপকরণ: চা পাতা ১ চা-চামচ অথবা টি ব্যাগ প্রতি কাপে ১টা করে, তুলসী পাতা ১০–১২টা, লেবুর রস স্বাদমতো, মধু স্বাদমতো ও পানি ৫০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: ফুটন্ত পানিতে তুলসী পাতা দিয়ে মিনিট পাঁচেক ফুটিয়ে নিন। চা পাতা দিয়ে আরও কয়েক মিনিট ফুটিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। স্বাদমতো লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পান করতে হবে।

 

কালোজিরা ও গোলমরিচের চা
কালোজিরা ও গোলমরিচের চাকালোজিরা ও গোলমরিচের চা

উপকরণ: চা পাতা ২ চা-চামচ, কালোজিরা আধা চা-চামচ, আস্ত গোলমরিচ আধা চা-চামচ, আদাকুচি এক চা-চামচের তিন ভাগের এক ভাগ, চিনি বা মধু স্বাদমতো ও পানি ৫০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পানি ফুটিয়ে চা, কালোজিরা, আস্ত গোলমরিচ আর আদাকুচি দিয়ে ৫/৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এবার চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে। কাপের ওপরে ছাঁকনি রেখে তাতে চা পাতা দিয়ে তার ওপরে ফুটন্ত কালোজিরা, গোলমরিচ ও আদা জ্বাল দেওয়া পানি ধীরে ধীরে ঢেলে ছেঁকে নিয়ে চিনি বা মধু মিশিয়ে নিয়ে গরম থাকা অবস্থাতেই পান করুন।

মাল্টা ও মরিচের চা

মাল্টা ও মরিচের চামাল্টা ও মরিচের চা

উপকরণ: চা পাতা আধা চা-চামচ, মাল্টা ১টি, কাঁচা মরিচ ১টি, চিনি বা চিনির বিকল্প স্বাদমতো ও পানি ৫০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পাত্রে পানি ফুটিয়ে তাতে চা পাতা ও কাঁচা মরিচকুচি দিয়ে ৫/৬ মিনিট ফুটিয়ে নিন। চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে তাতে স্বাদমতো চিনি (কিংবা চিনির বিকল্প), মাল্টার রস ও পাতলা গোল করে কাটা মাল্টা দিয়ে দিন। চামচ দিয়ে চিনি ও মাল্টার রস মিশিয়ে গরম গরম পরিবেশন করতে হবে। ঝাল খেতে না চাইলে কাঁচা মরিচ বাদ দিয়ে শুধু মাল্টা চা-ও তৈরি করা যেতে পারে।

লবঙ্গ চা

লবঙ্গ চালবঙ্গ চা

উপকরণ: চা পাতা আধা চা-চামচ, লবঙ্গ ১৫টি, চিনি বা মধু স্বাদমতো ও পানি ৭০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পাত্রে পানি দিয়ে চুলায় জ্বাল দিন। পানি ফুটে উঠলে তাতে লবঙ্গ দিয়ে মাঝারি আঁচে ১০ মিনিট ফোটাতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর চা পাতা দিয়ে আরও ৭–৮ মিনিট জ্বাল দিয়ে নামিয়ে নিন। ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে কাপে বা মগে নিয়ে স্বাদমতো চিনি বা মধু মিশিয়ে গরম গরম পান করতে হবে।

 

গুড়ের চা

গুড়ের চাগুড়ের চা

উপকরণ: চা পাতা ৩ চা-চামচ, গুঁড়া দুধ ৩ টেবিল চামচ, খেজুরের গুড় স্বাদমতো, আস্ত এলাচি ৩টি ও পানি ৭৫০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পাত্রে পানি হালকা গরম করে তাতে দুধ গুলিয়ে দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। সেই সঙ্গে এলাচিও দিয়ে দিন। দুধ ভালোমতো ফুটে উঠে একটু ঘন হলে চা পাতা দিয়ে আরও বেশ কিছুক্ষণ ফোটাতে হবে। চায়ের সুন্দর রং আর সুঘ্রাণ বের হলে তাতে স্বাদমতো পাতলা করে কোরানো গুড় বা বাসায় ঝোলা গুড় মিশিয়ে দিন। চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

 

আরো কিছু চা:

হোয়াইট টি 
এটাকে সবচেয়ে খাঁটি চা বলা হয়। অন্য সব চায়ের থেকে সবচেয়ে কম প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় এতে। সাদা চায়ের রং একেবারে হালকা এবং গন্ধও অনেক কম। মূলত এই চায়ের প্রাকৃতিক গন্ধ, স্বাদ ও মিষ্টতা উপভোগ করা হয়।

গ্রিন টি 
এটা বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় চায়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার মধ্যে এর চাহিদার শেষ নেই। অনেক স্বাস্থ্যকর চা বলে বিবেচিত হয়। অনেকগুলো ফ্লেভারেও মেলে। অনেক গ্রিন টি আছে যেগুলোতে ফল ও ফল মিশিয়ে দারুণ ফ্লেভার দেওয়া হয়। এমনিতেই সাদামাটা গ্রিন টিয়েরও অনন্য স্বাদ মেলে।

ওলং টি 
এর উচ্চারণটা আসলে উ লং টি। চীনের রেস্টুরেন্টগুলোতে সবচেয়ে বেশি চলে এই চা। গোটা চীনে দারুণ জনপ্রিয়।

ব্ল্যাক টি
অধিকাংশ মানুষ এই চা খান। ফুটন্ত পানিতে চা দিয়ে কড়া লিকারের বানানো হয়। এতে দুধ ও চিনি মেশালেও অপূর্ব স্বাদ মেলে।

হার্বাল টি 
এটা একমাত্র চা যেখানে ক্যামেলিয়া পরিবারের উদ্ভিদের কোনো পাতা থাকে না। তিন ধরনের হয়- রুইবস টি, মেট টি এবং হার্বালের মিশ্রণ। তৃতীয়টাতে খাঁটি হার্বাল উপাদান, ফুল এবং ফলের মিশ্রণ থাকে।

রুইবস টি 
দক্ষিণ আফ্রিকার লালচে ঝোপ নামে পরিচিত বিশেষ প্রজাতির উদ্ভিদ থেকে রুবিবস টি বানানো হয়। এটি রেড টি নামেই বেশি পরিচিতি পেয়েছে। এটা মজার চা। বিভিন্ন ফ্লেভার ও স্বাদে মেলে।

মেট টি 
যারা কফি পছন্দ করেন তাদের কাছে প্রিয় চা মেট টি। এর স্বাদ অনেকটা কফির মতো। মেট হলো আর্জেন্টিনার এক বুনো উদ্ভিদ। স্বাদের ও দারুণ ফ্লেভারে চা বানাও হয় এর সহায়তায়। কড়া স্বাদেরও হয়ে এই হার্বাল চা।

ব্লুমিং টি 
ফুটন্ত ফুলের চাও বলা হয়ে একে। আসলে এই চা বানানোর সময় ফুল যেন ফুটে যায়। শিল্পীরা এভাবেই বানান ব্লুমিং টি। এতে অনেক সময়ই নানা ধরনের ফ্লেভার জুড়ে দেওয়া হয়। অনেকে রোমান্টিক চা বলে থাকেন।

টি ব্লেন্ডস
উন্নতমানের একাধিক চায়ের মিশ্রণে তৈরি করা হয় টি ব্লেন্ডস। মিশ্রণে তৈরি হয় অনন্য ফ্লেভার।

মাকাইবারি টি 
দার্জিলিংয়ের এই চা সম্প্রতি প্রতি কেজি ১৮৫০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। ফলে মাকিবারি চা পৃথিবীর সবচেয়ে দামি চায়ের তকমা পেয়েছে।

সূত্র : প্রথম আলো,  টাইমস অব ইন্ডিয়া

আপনার জন্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *