নতুন ফেসবুক পেইজ খোলার পর কি করণীয়
আমার এখনও মনে পরে আমার প্রথম পেইজ খোলার কথা। পেইজ খুলে কয়েকদিন খুব পোস্ট দিলাম, ইনভাইট করলাম যত্রতত্র, পেইজের নতুন নতুন…
আমার এখনও মনে পরে আমার প্রথম পেইজ খোলার কথা। পেইজ খুলে কয়েকদিন খুব পোস্ট দিলাম, ইনভাইট করলাম যত্রতত্র, পেইজের নতুন নতুন নোটিফিকেশন পেয়ে ভালই লাগছিল কিন্তু ঠিক ১ সপ্তাহ পরেই পেইজে কোন এক্টিভিটি ছিল না। আমিও পোস্ট দেইনি বা পেইজ গ্রো করানোর জন্যে কিছু করিনি এবং যেমন কর্ম তেমন ফল। পেইজটা স্থবির হয়ে রইল। ঠিক কয়েকমাস পরে আবার উদ্যোগ নিলাম। পেইজে রিব্র্যান্ডিং করলাম, এবং বলব না যে এর পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি, কারন এখনও আমি বাংলা সিনেমার জসীম বা আলমগির এর মত হঠাৎ সাকসেসফুল হইনি কিন্তু পেইজের অবস্থান আগের থেকে ভাল। যাই হোক, কাজের কথায় আসি। নতুন ফেসবুক পেইজ খোলার পর কিছু স্ট্র্যাটেজি এবং স্টেপ ফলো করলে আপনি আশানুরূপ ফল পেতে পারেন। আসুন জেনে নেই বিস্তারিত।
1️⃣ বেসিক সেটাপ
নতুন পেইজ খোলার পরই কিছু বেসিক কাজ করে নিতে হবে। প্রোফাইল পিকচার, কভার ফটো, অ্যাবাউট সেকশন, মেসেঞ্জার, অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া এর সাথে সংযোগ, এবং যাবতীয় তথ্য আপনার পেইজে দিতে হবে।
2️⃣ প্রথম কন্টেন্ট কেমন হবে?
পেইজ গ্রো করানোর সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে কন্টেন্ট আপলোড করা। প্রথম দিকের কন্টেন্টগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনার প্রতিষ্ঠান বা আপনার পেইজের মূল উদ্দেশ্য বা কাজ কি তা নিয়ে জানানো। এই ব্যাপারটা আগে লিখেছি কারণ আপনি নতুন পেইজ খুলে কাউকে ইনভাইট করলে সে যদি পেইজে এসে পেইজের আসল উদ্দেশ্য কি তা বুঝতে না পারে, তাহলে সে হয়ত লাইক নাও দিতে পারে। সুতরাং কাউকে ইনভাইট পাঠানোর আগে বা পেইজ শেয়ার করার পূর্বে পেইজে এই ধরণের পোস্টগুলো করে ফেলতে হবে যার দ্বারা আপনার পেইজ দেখে যে কেউ বুঝতে পারবে আপনার পেইজের উদ্দেশ্য কি।
3️⃣ পেইজ ইনভাইট, সবাইকে দিব নাকি বাছাই করে?
পেইজে আপনার প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য দেয়ার পর এবং প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত পোস্ট দেয়ার পরের কাজ হচ্ছে আপনার ফ্রেন্ড লিস্টের মানুষগুলোকে ইনভাইট করা। এখন এই ইনভাইট গণহারে সবাইকে পাঠাবেন নাকি বেছে বেছে পাঠাবেন তা নির্ভর করবে আপনার পেইজের উপর। উদাহরণস্বরূপঃ আপনি একটি বাচ্চাদের প্রোডাক্ট এর পেইজ খুলেছেন, এই পেইজ থেকে সবাই কম বেশি উপকৃত হতে পারবে। সুতরাং এখানে সবাইকে ইনভাইট করাই যায়। অন্যদিকে আপনি একজন লিফট ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে একটি পেইজ খুলেছেন, সেখানে আপনার টার্গেট অডিয়েন্স হবে প্রতিষ্ঠানের ডিসিশন মেকার। তাই গণহারে ইনভাইট করার থেকে বেছে বেছে ইনভাউট করতে পারেন। তবে হ্যাঁ, আপনার প্রোফাইল বা অন্যান্য মাধ্যমের সাহায্যে সবাইকে অবশ্যই পেইজের ব্যাপারে জানাতে পারবেন।
4️⃣ লাইক কিনব নাকি কিনব না?
অবশ্যই না। দুষ্টু গরুর থেকে শূন্য গোয়াল ভাল। ফেসবুক লাইক কিনলেন তো হেরে গেলেন। কারণ এই লাইক সমূহ বেশিরভাগ আসে বিভিন্ন ফেইক অ্যাকাউন্ট থেকে যারা কোনদিনই আপনার ক্রেতা হবেন না। সুতরাং ফেসবুক লাইক কিনে উলুবনে মুক্তা ছড়াবেন না। অনেকেই পেইজ গ্রো করানোর জন্যে পাইকারি হারে লাইক কিনে থাকেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হন। যেমনঃ পেইজে লাইক থাকা সত্ত্বেও এঙ্গেজমেন্ট কমে যাওয়া, হঠাৎ করে লাইক গুলো আলিফ লায়লা স্টাইলে গায়েব হয়ে যাওয়া, পেইজে রাত জাগা পাখি, দিনের তারা এবং বিভিন্ন উদ্ভট নামের ফেইক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। সুতরাং কোনভাবেই লাইক কিনবেন না, বরং সঠিক উপায়ে বুস্ট করার চেষ্টা করুন।
5️⃣ কিভাবে এবং কেমন হবে প্রথম বুস্ট?
বুস্টিং আপনি নিজেও করতে পারেন অথবা প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে করাতে পারেন। যদি প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে করান তাহলে অবশ্যই পোর্টফলিও অর্থাৎ পূর্বের কাজ দেখে নিবেন, বুস্টের পর সকল খরচ এবং ফলাফলের রিপোর্ট চাবেন এবং যাচাই করে নিবেন। নিজে করার ক্ষেত্রে যথাযথ রিসার্চ এবং পড়াশুনা করে মাঠে নামবেন, নাহলে কষ্টের টাকা পানিতে যাবে। আপনার পেইজের প্রথম বুস্ট করবেন আপনার পণ্য বা সেবা সমূহকে কেন্দ্র করে। এবং যারা আপনার ক্রেতা হবেন সেরকম অডিয়েন্স টার্গেট করে বুস্ট করতে থাকবেন। তাহলেই ধীরে ধীরে আপনার পেইজ গ্রো করতে থাকবে।
6️⃣ ইনফরমেটিভ, সেলিং এবং এঙ্গেজিং কন্টেন্ট
পেইজ খোলার পর আপনি চেষ্টা করবেন ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট এবং সেলিং কন্টেন্ট এর একটি ব্যালেন্স তৈরি করা। ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট বলতে আপনার পণ্য এবং সার্ভিস সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্ট যা থেকে আপনার কাস্টমার লাভবান হবেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি অনলাইনে ফার্নিচার বিক্রি করেন আপনি “কিভাবে ফার্নিচার এর যত্ন নিতে হয়” এ ব্যাপারে পোস্ট দিতে পারেন। এতে করে আপনার পেইজের অডিয়েন্স এর সংখ্যা বাড়বে এবং পেইজের অরগানিক রিচ বাড়বে। এঙ্গেজিং কন্টেন্ট বুঝতে হলে প্রথম দিকে নানান ধরণের পোস্ট দিয়ে দেখতে হবে অডিয়েন্স কিভাবে রেসপন্স করে। চাইলে আপনি কন্টেস্ট, গিভঅ্যাওয়ে, চ্যালেঞ্জ ইত্যাদির মাধ্যমেও পেইজের এঞ্জেজমেন্ট বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন।
7️⃣ প্ল্যান – পোস্ট – প্রমোট
নতুন পেইজকে এই তিনটি বিষয়ের উপর রেখে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আপনার পেইজ এবং ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য নিয়ে ভেবে তা অনুযায়ী প্ল্যান করবেন, প্ল্যান অনুযায়ী পোস্ট বানাবেন এবং সেই পোস্ট বিভিন্নভাবে প্রমোট করবেন। প্ল্যানিং এর মধ্যে অবশ্যই আপনার পেইজের ইনসাইট অর্থাৎ কোন ধরণের পোস্টে এঙ্গেজমেন্ট বেশি, কখন তারা অনলাইন থাকে ইত্যাদি খেয়াল করে প্ল্যান করা এবং এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা খেয়াল রাখতে হবে। রোম যেমন একদিনে তৈরি হয়নি, আপনার পেইজও রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যাবেনা। নিয়মিত এর পেছনে কাজ করে যেতে হবে।
পুরো ব্যাপারটার সারমর্ম যা দাঁড়াচ্ছে তা হল, প্রথমত নতুন ফেসবুক পেইজের বেসিক সেটাপ করুন, পেইজের ব্যাপারে পোস্ট দিন, পেইজে ইনভাইট করুন, প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে বুস্ট করান, প্ল্যান করে নিয়মিত কন্টেন্ট দিন, অডিয়েন্স এর রেসপন্স দেখুন, সেই অনুযায়ী প্ল্যান ঠিক করুন এবং পোস্ট দিতে থাকুন। এভাবেই ধীরে ধীরে আপনার পেইজ আপনার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে পারবে।
আর কিছু প্রয়োজনে আমরা তো আছিই। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন Oitijjho.com ফেসবুক পেজে
